অর্থনীতি কাকে বলে? অর্থনীতিবিদদের প্রামাণ্য সংজ্ঞাসহ আলোচনা
অর্থনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Economics। গ্রিক শব্দ 'Oikonomia' হতে Economics শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। সাধারণত যে শাস্ত্র মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করে তাকে অর্থনীতি বলে। অর্থাৎ, মানুষ সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম অভাব পূরণের জন্য যা কিছু করে তা যে বিষয়ে আলোচিত হয়, তাকেই অর্থনীতি বলা হয়।
সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের সমস্যা যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, তেমনি অর্থনীতির সংজ্ঞাও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদগণ অর্থনীতির ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংজ্ঞা আলোচনা করা হলো:
১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ এ্যাডাম স্মিথ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Enquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations'-এ অর্থনীতির সংজ্ঞা দিয়েছেন।
১৮৯০ সালে অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল তাঁর বই 'Principles of Economics'-এ অর্থনীতির সংজ্ঞা দেন।
১৯৩১ সালে অধ্যাপক এল. রবিন্স সম্পদের স্বল্পতার ওপর ভিত্তি করে একটি বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেন।
আধুনিক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক পল এ. স্যামুয়েলসন তাঁর গ্রন্থ 'Economics'-এ সংজ্ঞা দেন।
| ক্রম | অর্থনীতিবিদ | সংজ্ঞার মূল বক্তব্য | গ্রন্থ/সাল |
|---|---|---|---|
| ১ | অ্যাডাম স্মিথ | অর্থনীতি হলো সম্পদের বিজ্ঞান | ১৭৭৬ Wealth of Nations |
| ২ | আলফ্রেড মার্শাল | অর্থনীতি হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কার্যাবলি | ১৮৯০ Principles of Economics |
| ৩ | লিওনেল রবিন্স | অর্থনীতি হলো অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সম্পর্ক | ১৯৩১ Nature and Significance |
| ৪ | পল স্যামুয়েলসন | অর্থনীতি হলো সম্পদ নির্বাচন ও বণ্টনের বিজ্ঞান | ১৯৪৮ Economics |
১০ নম্বরের উপযোগী উত্তরের পূর্ণাঙ্গতার জন্য অর্থনীতির সংজ্ঞার পাশাপাশি এর মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। অর্থনীতির পরিধি বা বিষয়বস্তু অত্যন্ত ব্যাপক, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
মানুষের অভাব অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত। সীমিত সম্পদ ও অসীম অভাবের মধ্যে সমন্বয় করে মৌলিক সমস্যা (কী উৎপাদন করা হবে, কীভাবে উৎপাদন করা হবে এবং কার জন্য উৎপাদন করা হবে) কীভাবে সমাধান করা যায়, তা অর্থনীতির আওতাভুক্ত বিষয়।
প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদের সাহায্যে প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করা এবং বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরের অভাব পূরণ করা, অর্থাৎ উৎপাদন, বিনিময় ও ভোগ সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত।
সমাজের সম্পদ সীমিত, কিন্তু এই সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা হলো দক্ষতা। সম্পদের কাম্য ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সর্বাধিক করা অর্থনীতির আলোচ্য বিষয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, অর্থনীতি একটি গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান। এটি কেবল সম্পদ আহরণ বা মানুষের দৈনন্দিন কার্যাবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালনার পথ নির্দেশ করে।
অর্থনীতি শব্দের ইংরেজি Economics গ্রিক শব্দ 'Oikonomia' থেকে এসেছে, যার অর্থ গৃহস্থালি পরিচালনা।
অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, "অর্থনীতি হলো সম্পদের বিজ্ঞান"। তিনি তাঁর 'Wealth of Nations' (১৭৭৬) গ্রন্থে এই সংজ্ঞা দেন।
লিওনেল রবিন্স অসীম অভাব ও বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তিতে অর্থনীতির বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা দেন।
অর্থনীতির মূল বিষয়বস্তু হলো মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান, উৎপাদন-বিনিময়-ভোগ এবং সম্পদের কাম্য ব্যবহার।
অর্থনীতি একটি গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান যা ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে।